সুন্নাতি খাবার তালবিনা

যব পিষে, দুধে পাকিয়ে তাতে মধু মেশালেই তৈরি হয়ে যায় তালবিনা। আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে বলতে শুনেছি যে, ‘তালবিনা’ রুগ্ন ব্যক্তির হৃদয়ে প্রশান্তি আনে এবং শোক দুঃখ কিছুটা দূর করে।পাকস্থলী এবং অন্ত্রতে আলসারের রোগীদের সকালের নাস্তায় নাবী সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সময়ে উন্নত মানের ব্যবস্থাপত্র হিসেবে তালবিনা দেয়া হতো।যব পিষিয়ে, দুধে পাকিয়ে তাতে মধু মিশ্রিত করলে তাকে তালবিনা বলা হয়। এতে আলসারের প্রতিটি রুগী ২/৩ মাসের মধ্যে আরোগ্য লাভ করত।[৫৬৮৯, ৫৬৯০; মুসলিম ৩৯/৩০, হাঃ ২২১৬, আহমাদ ২৫২৭৪] আধুনিক প্রকাশনী- ৫০১৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৯১০)আইশা(রা:) হতে বর্ণিত,রসুলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তোমাদের পছন্দ না হলেও খাওয়া উচিত যাতে তোমাদের কল্যাণ(তালবিনা) রয়েছে। যার হাতে মুহাম্মাদের জীবন; তার শপথ, এটা (তালবিনা) ঠিক সেভাবে পেটকে পরিষ্কার করে যেভাবে তোমরা পানি দিয়ে মুখের ময়লা ধুয়ে পরিষ্কার করো। (সুনান আন নিসাই আল কুবরা, মুস্তাদরাক আলা সাহিয়া)আইশাহ রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহা বলেন, যদি রসুল সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পরিবারের কেউ অসুস্থ হয়ে পড়ত, তিনি বলতেন, তালবিনা শোকাতুর হৃদয়কে শান্ত করে আর অসুস্থ হৃদয়কে সেভাবে পরিষ্কার করে যেভাবে তোমরা মুখ থেকে নোংরা ধুয়ে ফেল।সহীহ সুনান ইবন মাযাহ, হাদিস ৩৪৪৫। হাদিসটি হাসান।তালবিনা খুব সাধারণ একটি খাবার যা রসুল এবং সাহাবাদের সময়কার জনপ্রিয় একটি খাবার ছিল।এর গুণাগুণ:১. কোলেস্টেরল কমায়।২. পেটের জ্বালা-পোড়া কমায়।৩. হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়।৪. রক্তের সুগার ধীরে ধীরে বাড়ে, ফলে ডায়াবেটিক রোগের জন্য উপকারী।৫. উচ্চ রক্তচাপ কমায়।৬. কিডনি রোগীদের জন্য উপকারী।৭. অসুস্থ, দুর্বল রোগীদের শক্তিদায়ক পথ্য হিসেবে।৮. শিশুদের প্রয়োজনীয় আঁশ, আমিষ এবং খনিজ পদার্থ যোগান দেয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *